পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বড় রাজনৈতিক সমাবেশ থেকেই এক বিশাল আন্তঃসীমান্ত বিতর্কের আগুন উস্কে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন যে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাকি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ (STF) যেন বাংলাদেশের এক হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ না করে—সেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নিহতের নাম প্রকাশ না করলেও, তার দেওয়া বিবরণটি কিন্তু হুবহু মিলে যায় বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র এবং জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদীর হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের সাথে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদী। পরবর্তীতে মার্চ মাসে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম এবং তার সহযোগী আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের পর বনগাঁ সীমান্তের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর হাতে ধরা পড়ে এবং ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন UAPA ধারায় মামলা দেয়।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য বাংলাদেশী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশাল ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার ঝড় তুললেও, পুরো নাটকটি সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে খোদ নিহতের ভাই শরিফ ওমর হাদীর একটি বিস্ফোরক মন্তব্যে! এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওমর হাদী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে—সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ উপদেষ্টা, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ এবং এক প্রভাবশালী জামায়াত নেতার একান্ত সচিব (PS) ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের আসল মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী।
Geopulse TV
