নয়াদিল্লি: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী শীতলতা এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিরোধের পর ভারত-নেপাল সম্পর্কে নতুন করে উষ্ণতা ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Shisir Khanal আজ তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছাচ্ছেন। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী S. Jaishankar-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।
সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের প্রস্তাবিত নেপাল সফরের সময় তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী Balen Shah-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাননি। ওই ঘটনার কারণে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। যদিও ভারত সরকার এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করে।
এই প্রেক্ষাপটে খানালের দিল্লি সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কাঠমান্ডুর পক্ষ থেকে অতীতের মতপার্থক্য ও অস্বস্তি পেছনে ফেলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার স্পষ্ট বার্তা।
এর আগে নেপালের ক্ষমতাসীন Rastriya Swatantra Party (আরএসপি)-এর চেয়ারম্যান Rabi Lamichhane-এর ভারত সফরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নয়াদিল্লিতে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তিনি প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর সঙ্গে।
সাংস্কৃতিক গুরুত্ববহ একটি পদক্ষেপ হিসেবে লামিছানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান Pashupatinath Temple-এর একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন।
বৈঠকের পর এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে লামিছানে লেখেন, মোদির সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী ফলপ্রসূ আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে উন্নয়নকেন্দ্রিক কূটনীতির নতুন যুগে প্রবেশের বিষয়ে তিনি মোদির দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত। তাঁর মতে, অভিন্ন সভ্যতাগত বন্ধন, ডিজিটাল করিডর এবং নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে দুই দেশ পারস্পরিক আস্থা ও অগ্রগতিনির্ভর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, মোদিও এক্সে দেওয়া বার্তায় লামিছানের সঙ্গে সাক্ষাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতের ‘Neighbourhood First’ নীতির আওতায় নেপাল একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অংশীদার এবং নতুন নেপালি সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের বিশেষ ও বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভারত আগ্রহী।
এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানালের সফরের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তব কূটনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষ জলবিদ্যুৎ, সীমান্তবর্তী সংযোগ অবকাঠামো এবং বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে পারে। সম্পর্কের অবনতির সময় এসব ক্ষেত্রে গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর মূলত পারস্পরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি উদ্যোগ। নেপালের জোট সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আরএসপির জন্য ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, হিমালয়ঘেরা দেশটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে নেপালের প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী ভারত।
নেপালের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, খানালের এই সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিন দিনের সফর শেষে শনিবার তাঁর কাঠমান্ডু ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
Geopulse TV
