শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ, অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে লন্ডন
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশ্বের অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে ব্রিটেন। প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer ঘোষণা করেছেন, ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। পাশাপাশি অনলাইন গেমিং ও লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সরকার।
সোমবার স্টারমার জানান, শিশুদের অনলাইন ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, “It is clear to me a full ban is the right choice”—অর্থাৎ তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে না। তবে তাঁর মতে, শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে সরকারকে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ক্ষমতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ভূমিকা পালন করতে হবে।
গত কয়েক বছর ধরেই ব্রিটেন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করা, অ্যালগরিদম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে শিশুদের অতিরিক্ত অনলাইন ব্যবহারের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর স্টারমার আরও কঠোর পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পদক্ষেপকেও বিবেচনায় নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াই প্রথম দেশ, যারা ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে।
অস্ট্রেলিয়া গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য TikTok, Alphabet-এর YouTube এবং Meta-এর Instagram ও Facebook-এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ সীমিত করেছে। এরপর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ব্রিটিশ সরকার নতুন নিয়ম তৈরির আগে শিক্ষক, অভিভাবক এবং তরুণদের মতামত নিয়েছে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাতের নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, দৈনিক সময়সীমা এবং আসক্তি তৈরি করে এমন ডিজাইন পরিবর্তনের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অভিভাবক, প্রযুক্তি শিল্প ও তরুণদের কাছ থেকে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মতামত পাওয়া গেছে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝুঁকি এর সুবিধার চেয়ে বেশি। প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরকে ন্যূনতম বয়সসীমা করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অনেক অভিভাবক ও রাজনীতিক নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলেও কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক মনে করছেন, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধান করতে পারবে—এমন প্রমাণ এখনও নেই।
লন্ডনের কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থীও জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জটিল। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগ ও শেখার সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক চাপ ও নির্ভরতার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও শিশুদের জন্য ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের নতুন নীতির পথ খুলে যেতে পারে।
Geopulse TV
