ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ও বর্তমান জনদুর্ভোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জেলা আমির সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জ্বালানি সংকটের কথা অস্বীকার করলেও সাধারণ মানুষ দিনে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জ্বালানি বা বিদ্যুতের সংকট না থাকলে এই অসহ্য লোডশেডিং কেন?”
দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। এর ওপর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কাজেও নজিরবিহীন দলীয়করণ ও চাঁদাবাজি চলছে। এমনকি কার্ড দেওয়ার নামে এক বিধবার শ্লীলতাহানির মতো ভয়াবহ ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক অঘটন ঘটলেও লোকলজ্জায় মানুষ মুখ খুলছে না।
নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিচার বিভাগ
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী নিজেরাই এর সাক্ষী। বিদেশের মাটিতে ট্রফি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের নতুন অধ্যাদেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ দিলে আবারও অতীতের মতো ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ বিচারক তৈরি হবে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধূলিসাৎ করবে।
অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতা
ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে অপরাধীরা সামান্য টাকা দিয়ে আবারও ব্যাংকের মালিক হয়ে বসার সুযোগ পাবে, যা অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি সরকারকে ভুল পথ থেকে সরে এসে গণভোটের রায়কে মেনে নেওয়ার এবং ফ্যাসিজম মুক্ত শাসনব্যবস্থা কায়েমের আহ্বান জানান।
সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Geopulse TV
