হরমুজ প্রণালী সংকট: অস্ট্রেলিয়ার ওপর আবারও ক্ষোভ ঝাড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন/ক্যানবেরা: পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকায় আবারও প্রকাশ্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বেশি সামরিক ও আর্থিক অবদান রাখা উচিত ছিল। ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য ক্যানবেরা ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।

অসন্তোষের মূলে কী?
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা এবং জলযান আটকের ঘটনায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেহেতু অস্ট্রেলিয়া এই রুট থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে তাদের নিজেদেরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত। ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি অস্ট্রেলিয়ার পদক্ষেপে একদমই খুশি নই। আমরা কেন সবার জন্য বিনামূল্যে পুলিশিং করব?”

ক্যানবেরার কূটনৈতিক সংকট
অস্ট্রেলীয় সরকার বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ জোট বজায় রেখে চলেছে, বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। তবে হরমুজ প্রণালীতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ বা সৈন্য মোতায়েনের ক্ষেত্রে ক্যানবেরা কিছুটা সাবধানী অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের এই চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার নীতিনির্ধারকরা এখন উভয় সংকটে পড়েছেন—একদিকে মিত্রের দাবি পূরণ, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি।

বৈশ্বিক তেলের বাজার ও নিরাপত্তা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মিত্র দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর জন্য বাধ্য করার একটি কৌশল। যদি অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলো হরমুজ সংকটে সক্রিয়ভাবে অংশ না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল থেকে তাদের নিরাপত্তা ছাতা গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে রাখছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

About Geopulse TV

Check Also

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০ হাজার ডলারের ‘ভিসা বন্ড’ নীতি: ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার উদ্যোগ পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপের

আমদের ব্যবসায়িক ও পর্যটন সংক্রান্ত অস্থায়ী ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত ২০,০০০ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮৮,০০০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *