ক্রিসমাস আইল্যান্ড: ভারত মহাসাগরে অবতরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর দূরবর্তী অস্ট্রেলীয় ভূখণ্ড ক্রিসমাস দ্বীপের উপকূলে দেখা মিলল আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX)-এর বিশালাকার ‘স্টারশিপ’ রকেটের। গত ২৪ জুলাই টেক্সাস থেকে সফল টেস্ট ফ্লাইটের পর রকেটটি ভারত মহাসাগরে ল্যান্ড করেছিল।
ক্রিসমাস আইল্যান্ড ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াচর্ন জানান, সকালে কাজে যাওয়ার সময় তিনি দূর থেকে এটিকে সাধারণ কোনো জাহাজ ভেবে ভুল করেছিলেন। তবে কাছে গিয়ে ভালো করে দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন এটি সাধারণ কোনো জাহাজ নয়; বরং ৫০ মিটারেরও বেশি লম্বা একটি মহাকাশ রকেট।
স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম কৌতূহল: বিশালাকার এই রকেটের আগমন ঘিরে দ্বীপটির বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। রকেটের এক নজর দেখা পেতে অনেকেই কর্মস্থল থেকে কিছুটা সময় বের করে নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ ধ্বংসাবশেষটি কাছ থেকে দেখার জন্য নিজেদের ট্রলার ও নৌকা প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন।
ডেভিড ওয়াচর্ন বলেন, “রকেটটি মহাশূন্যে কত বড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে আবার ফিরে এসেছে, তা ভাবতেই অসাধারণ লাগছে। যত দেখছি, বিষয়টি ততটাই চমকপ্রদ মনে হচ্ছে।”
স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক উদ্ধার অভিযান: স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ফ্লাইট ১৩’ পরীক্ষা সম্পন্ন করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের পর এই রকেটের ‘শিপ ৪০’ (Ship 40) অংশটি ভারত মহাসাগরে আলতোভাবে অবতরণ করে এবং এটি অক্ষত অবস্থায় ভাসতে থাকে।
টানা ২৪ দিন ধরে খোলা সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল তরঙ্গের বিরুদ্ধে লড়াই করার পর স্পেসএক্সের রিকভারি টিম রকেটটিকে টেনে ক্রিসমাস দ্বীপের কাছে শান্ত পানিতে নিয়ে আসে। স্পেসএক্সের প্রকৌশলীদের একটি দল দ্বীপটিতে পৌঁছে রকেটটির যান্ত্রিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপর টেক্সাসের স্টারবেসে (Starbase) পুনরায় ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, মহাকাশ ভ্রমণের পর রকেটের ওপরের অংশটি (Upper Stage) এভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার ঘটনা স্পেসএক্সের ইতিহাসে এটিই প্রথম।
Geopulse TV
