পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোয় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জান্তা শাসনের রাশ আরও শক্ত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এক আকস্মিক ডিক্রির মাধ্যমে দেশটির সামরিক সরকার কয়েক ডজন নাগরিক সমাজ বা সিভিল সোসাইটি সংগঠন (CSO) বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। সরকারের অভিযোগ, এই সংগঠনগুলো দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর বর্তমান জান্তা প্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যে সমস্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছিল এবং দেশের চলমান জিহাদি বিরোধী সামরিক অভিযানে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল।
কঠোর নজরদারি ও বিরোধীদের কণ্ঠরোধ
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ত্রাওরে সরকার জনমতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মরিয়া। এবারের এই গণ-বিলুপ্তির তালিকায় রয়েছে এমন কিছু সংগঠন যারা মানবাধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব ছিল। সরকারের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আফ্রিকান মানবাধিকার সংস্থা বুরকিনা ফাসোর নাগরিক স্বাধীনতার এই ক্রমবর্ধমান সংকোচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নিরাপত্তা বনাম স্বাধীনতা-
বুরকিনা ফাসো বর্তমানে আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট (IS) সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক জান্তার দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা জরুরি, এবং নাগরিক সংগঠনগুলো অনেক সময় ‘মুক্ত চিন্তার’ নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তবে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশ মনে করছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে জান্তা সরকার আসলে তাদের গদি টিকিয়ে রাখতে সব ধরণের ভিন্নমত দমনে লিপ্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া-
সাম্প্রতিক সময়ে বুরকিনা ফাসোর সাথে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এবং দেশটি রাশিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকেছে। সিভিল সোসাইটি গ্রুপগুলোর ওপর এই আঘাতকে পশ্চিমী দেশগুলো গণতন্ত্রের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে বিদেশি সাহায্য এবং মানবিক সহায়তার পথ আরও রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে, যা চরম দারিদ্র্যপীড়িত বুরকিনা ফাসোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানী ওয়াগাডুগুসহ বড় শহরগুলোতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিলুপ্ত হওয়া সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, গোপনে অনেকেই এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশের চেষ্টা করছেন।
Geopulse TV
