Breaking News

বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীতে যুক্ত ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’, প্রযুক্তি ও প্রচলিত সামরিক শক্তির সমন্বয়ের বার্তা রাজনাথ সিংয়ের

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রচলিত সামরিক সক্ষমতাকে একসঙ্গে শক্তিশালী করেই ভারত একটি আত্মনির্ভর ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উদীয়মান প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত বিজয় নির্ভর করবে জাতীয় সংকল্প, সাহসী সেনা এবং শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতার ওপর।

আজ অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীর ইস্টার্ন ফ্লিটে প্রজেক্ট ১৭এ-এর ষষ্ঠ দেশীয় স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ কমিশনিং অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও প্রচলিত সামরিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক, এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় ভারত উভয় ক্ষেত্রেই উৎকর্ষ অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি ভারতের সামুদ্রিক শক্তি ও দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গত প্রায় দেড় বছরে ভারতীয় নৌবাহিনীতে ছয়টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের দ্রুত বিকাশমান জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পব্যবস্থা এবং দেশীয় উৎপাদনের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত এখন প্রতিরক্ষা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে। ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ জাহাজটির ৭৫ শতাংশের বেশি অংশ দেশীয় উপাদান দিয়ে নির্মিত, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ।

তিনি এই যুদ্ধজাহাজকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘ব্লু ওয়াটার’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত মাল্টিফাংশন রাডার, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমসহ বিভিন্ন আধুনিক দেশীয় অস্ত্র প্রযুক্তিতে সজ্জিত।

এই জাহাজটি আকাশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের নিচের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও জোরদার করবে।

‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং শক্তিশালী প্রচলিত সামরিক ক্ষমতার সমন্বয় প্রদর্শন করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত। এই অভিযান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মহাসাগর’ (MAHASAGAR – Mutual and Holistic Advancement for Security and Growth Across Regions) ভাবনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার ও ‘নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবিক সহায়তা, জলদস্যু দমন অভিযান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে ভারতীয় নৌবাহিনী সবসময় প্রথম সাড়া প্রদানকারী হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের সময় জ্বালানি বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেও নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি বিশাখাপত্তনমকে ভারতের সামুদ্রিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রতিরক্ষা ও এয়ারোস্পেস উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

তিনি অ্যানাকাপল্লি জেলায় ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের ডায়নামিক সিস্টেমস ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি, অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) কোর ইন্টিগ্রেশন ও ফ্লাইট টেস্টিং সেন্টার এবং কর্ণুলে প্রস্তাবিত ‘ড্রোন সিটি’-র মতো উদ্যোগগুলোর উল্লেখ করেন, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে।

ভারতের সামুদ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মেরিটাইম ইন্ডিয়া ২০৩০’ পরিকল্পনার আওতায় জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক খাতের আধুনিকীকরণ চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি দেশীয় যুদ্ধজাহাজ দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পভিত্তি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভারত শীঘ্রই বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দেশের যুবসমাজ, স্টার্টআপ, উদ্ভাবক, গবেষক ও শিল্পখাতকে আগামী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

About Desk 1

Check Also

মোদি-লাক্সন বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত: কৌশলগত অংশীদারিত্বে ভারত-নিউজিল্যান্ড

ভারত এবং নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *