হরমুজ প্রণালি ফের সচল, একদিনেই পার হল ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার একদিনে ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে, যা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এএক্সএসমেরিন (AXSMarine)।

শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২৫টি নিশ্চিত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। এটি ১৮ এপ্রিলের পর এক দিনে সর্বোচ্চ জাহাজ পারাপারের ঘটনা। সংস্থাটি জানিয়েছে, জুনের প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে যে সংখ্যক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছিল, বৃহস্পতিবারের সংখ্যা তার পাঁচ গুণেরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানি বাহিনী কার্যত হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এরপর ওই এলাকায় জাহাজের ওপর একাধিক হামলার খবর পাওয়া যায়।

পরে ইরান সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেয়। এর ফলে ১৮ এপ্রিল জাহাজ চলাচলে সাময়িক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিপিং পত্রিকা ‘লয়েডস লিস্ট’। অর্থনীতিবিদদের মতে, শান্তিপূর্ণ সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

AXSMarine জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে মাত্র ৭.৬টি জাহাজ চলাচল করেছে।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক জাহাজ নজরদারি এড়াতে তাদের এআইএস (AIS) ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয় বা ভুয়া সংকেত ব্যবহার করে।

AXSMarine-এর মতে, বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় এআইএস সংকেত বিঘ্নের ঘটনা দেখা যায়। একই সময়ে ২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের সংকেত অস্বাভাবিক আচরণ করেছে বা পরিবর্তিত সংকেত ব্যবহার করেছে।

এদিকে, জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বাণিজ্যিক যাতায়াত পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। অনেক জাহাজ এখনও উপসাগর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি দেখছে।

আন্তর্জাতিক শিপিং সংগঠন বিমকো (BIMCO)-র প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জ্যাকব লারসেন জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই জাহাজ চলাচল সহজ করতে একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী সংস্থা গঠনের প্রত্যাশা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

IMO-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৫০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগরে আটকে রয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় ১১ হাজার নাবিক রয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এই যুদ্ধের প্রভাবে ওই অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার নাবিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

About Desk 1

Check Also

বিশ্ব স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তায় জি৭-এর বড় পদক্ষেপ, অপরাধ দমনে একাধিক ঘোষণা

বিশ্ব স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় একাধিক ঘোষণা গ্রহণ করেছে জি৭ দেশগুলির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *