ভারতের বিরুদ্ধে ফের ‘পুশ-ইন’-এর অভিযোগ তুলে সীমান্ত ইস্যুতে সরব হয়েছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১২ জুন বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ জুন রাজধানী ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হবে। ফলে সীমান্ত ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী কয়েক দিনে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে দাবি করেন, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে—এই তিন মাসে সীমান্তের ৫০টিরও বেশি স্থানে মোট ২,৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-ও অংশ নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলিতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে জোটভুক্ত দলগুলির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এরপর ১৫ জুন ঢাকায় বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।
অন্যদিকে, ‘পুশ-ইন’ সংক্রান্ত বাংলাদেশের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান, কোনও ধরনের জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে না।
এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে কোনও অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়লে তাঁকে নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে এবং পরে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি ভারতে এসেছেন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির প্রতিনিধি দলের প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামান। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের এটি প্রথম বৈঠক।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচি সীমান্ত রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Geopulse TV
