বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে ছয়জন নতুন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮-তে।
বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে ছয়জন নেতাকে রাজনৈতিক পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম এবং মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া রাজনৈতিক পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, এবং যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন ও সালেহ উদ্দিন সিফাত।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক পর্ষদ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্তরগুলির অন্যতম। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক পর্ষদের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদ এবং দলের অপর দুই সাংসদ আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আবদুল্লাহ আল আমিন।
এদিকে রাজনৈতিক পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সারোয়ার তুষার অতীতে একটি বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন। এনসিপিতে যোগ দেওয়া নীলা ইস্রাফিল অভিযোগ করেছিলেন যে, সারোয়ার তুষার তাঁকে একবার ফোনে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তুষারকে শোকজ করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই শোকজ নোটিস প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামো আরও সম্প্রসারিত করল। রাজনৈতিক পর্ষদে নতুন মুখের আগমন দলটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।
Geopulse TV
