যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance ব্রিটেনে এক কলেজ শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, “অভিবাসীদের আগ্রাসন” এবং পশ্চিমা রাজনৈতিক অভিজাতদের ব্যর্থতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে, যা পশ্চিমা সভ্যতার অবক্ষয়ের প্রতীক।
১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী Henry Nowak গত ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের Southampton শহরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী Vickrum Digwa তাকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা নওয়াককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে রাখে। পরে তিনি মারা যান।
ভ্যান্স তার পোস্টে বলেন, “হেনরি নওয়াক যেভাবে মারা গেছেন, একটি সভ্যতাও ঠিক সেভাবেই মারা যায়—যখন কর্তৃপক্ষ তাকে পরিত্যাগ করে, তার প্রতি আস্থা রাখে না এবং এমন অপরাধের অভিযোগ আনে, যা সে করেনি।” তিনি এ ঘটনাকে “মর্মান্তিক এবং ক্ষোভের উদ্রেককারী” বলে উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভ্যান্স এ ঘটনায় “ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ” প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “হেনরি আজ বেঁচে থাকত, যদি ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আত্মঘৃণার রাজনীতি এবং ব্যাপক অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত। বহু অভিবাসী পশ্চিমা মূল্যবোধ ও পশ্চিমকে ভালোবাসা মানুষদের ঘৃণা করে।”
এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা দেখেছি কিছু মানুষ আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে এবং রাস্তায় বিভাজন উসকে দিতে চাইছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা চান না এই হত্যাকাণ্ডকে “আরও বিভাজন, ঘৃণা বা উত্তেজনা সৃষ্টি করার হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হোক।
এদিকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Elon Musk-ও একাধিকবার এই ঘটনার পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক্সে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও সম্প্রতি এ ঘটনাকে ঘিরে “আদর্শগত প্রভাবিত আইন প্রয়োগ” এবং “দ্বৈত মানদণ্ডের পুলিশিং”-এর সমালোচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার স্টারমার সরাসরি মাস্কের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, তিনি ব্রিটেনে বিভাজন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে ভ্যান্সের মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং অভিবাসন প্রশ্নে মতপার্থক্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।
Geopulse TV
