কারাকাস: দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও চরম দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকার। এক সময়ের কট্টর সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রটি এখন অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মুক্তবাজার সংস্কারের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সরকারের নতুন নীতিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কারাকাস এখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাতে মরিয়া।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও তেলের রাজনীতি
ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ধুঁকছে। মাদুরো সরকার এখন রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘PDVSA’-তে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে এবং বেসরকারি খাতের ওপর থেকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করছে। ডেলসি রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা তার অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে প্রস্তুত এবং এর জন্য তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘গঠনমূলক সংলাপে’ বসতে চায়।
দারিদ্র্য ও হাইপার-ইনফ্লেশন মোকাবিলা
গত কয়েক বছরে ভেনেজুয়েলায় মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে, যা লাখ লাখ মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। বর্তমান সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় মুদ্রা ‘বলিভার’-এর মান স্থিতিশীল করা এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা। যদিও সমালোচকদের মতে, এই সংস্কারের সুফল এখনও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি, তবুও বাজারে পণ্যের সরবরাহ এবং ডলারের ব্যবহার বাড়ায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।
ট্রাম্প ফ্যাক্টর ও ভূ-রাজনীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা ভেনেজুয়েলার জন্য একই সাথে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প আগে মাদুরো সরকারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং তেলের বৈশ্বিক চাহিদার কারণে আলোচনার নতুন পথ তৈরি হতে পারে। মাদুরো আশা করছেন, ট্রাম্পের ‘বিজনেস ফার্স্ট’ নীতি ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলে সহায়ক হবে।
ভেনেজুয়েলার এই অর্থনৈতিক বিবর্তন কেবল দক্ষিণ আমেরিকায় নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
Geopulse TV
