উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কোনো ধরনের সহায়তা বা সুবিধা না দেওয়ার জন্য দক্ষিণ উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। এসব ঘাঁটিতে সামরিক বিমানসহ বিভিন্ন মার্কিন সামরিক সম্পদের উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অজ্ঞাতসারে হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবদোল্লাহির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের সহায়তা বা সহযোগিতা করা হলে সেটিকে মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান।
ইরানের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামুদ্রিক চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিভিন্ন আঞ্চলিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইরানের এই হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপ আরও বাড়াতে পারে।
এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে পেন্টাগন পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ ও কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে ইরানের সতর্কবার্তা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ—দুইয়ের প্রভাবেই উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
Geopulse TV
