ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যদি সেই চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ করা হয় এবং দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ফোনালাপটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা নেতানিয়াহুকে বিস্মিত করে। কারণ তখন তিনি ইরান-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই প্রতিশ্রুতির জন্য যে, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলা হবে, পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হবে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এমন একটি চুক্তিকে সমর্থন করেন যা ইসরায়েলের মৌলিক নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোকে সমাধান করবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর উল্লেখ করা কয়েকটি বিষয় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যে তেমন গুরুত্ব পায়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান নীতিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে। তার ভাষায়, “তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা এতে সম্মত হয়েছে। শুধু অস্ত্র রাখবে না তা-ই নয়, তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র কিনবে না, উন্নয়নও করবে না।”
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি প্রকাশ্যে তেমনভাবে তুলে ধরেননি। অথচ এই দুটি বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
ফোনালাপের কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে দাবি করেছিলেন, আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং খুব শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা আসতে পারে। পরে তিনি আরও বলেন, উদীয়মান সমঝোতাটি একটি “বড় ধরনের সমাধান” এবং চুক্তির নথিপত্র প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত।”
Geopulse TV
