তেলবাহী জাহাজ এমটি সেট্টেবেলো (MT Settebello)-এর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইওএস মেরিন এফ.জেড.ই. (IOS Marine F.Z.E.) অভিযোগ করেছে, জাহাজটিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর জন্য মার্কিন নৌবাহিনী দায়ী। এ ঘটনায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এক প্রকাশ্য বিবৃতিতে আইওএস মেরিন বলেছে, প্রাণহানির এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জানা উচিত ঠিক কী ঘটেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাদের স্বজনদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি কেবল একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নয়; বরং এমন একটি ট্র্যাজেডি, যাতে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং যার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের ওপর থেকে যাবে। তারা আরও জানিয়েছে, ঘটনাটিতে জাহাজটিরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং এর মেরামত ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে।
বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হলো, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে জাহাজটিকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না। আইওএস মেরিন দাবি করেছে, এমটি সেট্টেবেলো কোনো রেডিও বার্তা বা নির্দেশনা উপেক্ষা করেনি। তাদের বক্তব্য, ঘটনার আগে জাহাজটির সঙ্গে কার্যকর কোনো যোগাযোগই স্থাপন করা হয়নি। যদি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তবে তার প্রমাণ প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া জাহাজটির সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক ছিল বা এটি ইরানি তেল বহন করছিল—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে আইওএস মেরিন। তাদের দাবি, এমটি সেট্টেবেলো একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তাই এটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার কোনো কারণ ছিল না।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার আগে প্রায় ১০ দিন ধরে জাহাজটি একই স্থানে অবস্থান করছিল। এ সময় জাহাজটি এমন কোনো গতিবিধি করেনি, যা আক্রমণাত্মক বা সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হতে পারে। ফলে ব্যবহৃত সামরিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
আইওএস মেরিনের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি জাহাজ বা একটি ক্রুর বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন শিল্পের জন্যও উদ্বেগের কারণ। বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ কোন পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। অন্যথায় অস্থিতিশীল জলসীমায় চলাচলকারী নাবিকদের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, যদি জাহাজটির কার্গো বা জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তাহলে বড় ধরনের তেল দূষণ ঘটতে পারত। এতে সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় জনপদ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারত। তাদের মতে, ক্রু সদস্য ও আশপাশের জাহাজগুলোর দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিবৃতির শেষে আইওএস মেরিন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকারের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা নিহতদের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Geopulse TV
