জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলো টিনুবু দাবি করেছেন, গত এক বছরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৩ হাজারের বেশি “সন্ত্রাসী” নিহত হয়েছে। শুক্রবার তিনি জানান, ২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে চলমান জিহাদি বিদ্রোহের প্রভাবও কমেছে।
টিনুবু বলেন, “গত এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, এই সংখ্যা ২০২৫ সালের শুরু থেকে হিসাব করা হয়েছে নাকি গত ১২ মাসের হিসাব।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সাল থেকে “অপারেশন সেফ করিডোর”-এর মাধ্যমে ১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি যোদ্ধা ও তাদের সহযোগী অস্ত্র ত্যাগ করেছে।
দীর্ঘদিনের জঙ্গি সংকটে নাইজেরিয়া
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সাহেল অঞ্চল থেকে আসা জঙ্গি গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক মতাদর্শবিহীন সশস্ত্র অপরাধী চক্রের হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
২০০৯ সালে জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
দেশটির নিরাপত্তা সংকট শুধু জঙ্গি হামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে নতুন এলাকায়
RT News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে।
গত মে মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওয়ো রাজ্যে একটি স্কুল থেকে ৪০ জনের বেশি ছাত্র ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছিল। এই ঘটনা দেখিয়েছে যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপহরণ ও সশস্ত্র অপরাধের ঝুঁকি এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়।
নাইজেরিয়া সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অগ্রগতির দাবি করলেও দেশটির বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এখনও বহাল রয়েছে।
Geopulse TV
