কঙ্গোর সংবিধান সংশোধন ঠেকাতে বিরোধীদের চাপ, তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (DRC) সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে বিরোধীরা।

দেশটির প্রধান বিরোধী নেতাদের একজন এবং ENVOL দলের প্রেসিডেন্ট ডেলি সেসাঙ্গা বলেছেন, বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালে শিসেকেদির দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা।

সেসাঙ্গা বলেন, বর্তমান সংবিধানে প্রেসিডেন্টের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই সংবিধানে কোনো ধরনের পরিবর্তন এনে তৃতীয় মেয়াদের সুযোগ তৈরি করা হলে তার বিরোধিতা করবে বিরোধী জোট C64।

২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসেন ফেলিক্স শিসেকেদি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদে জয় পান। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ২০২৮ সালে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

তবে সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের সংঘাতও দেশটির রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। নর্থ কিভু ও সাউথ কিভু অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় রুয়ান্ডা-সমর্থিত M23 সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ব্যাপক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

বিরোধী নেতা ডেলি সেসাঙ্গার মতে, পূর্বাঞ্চলের সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন। তার দাবি, আলোচনায় শুধু সরকার নয়, M23/AFC, সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা, AFC-M23-এর সমন্বয়ক কর্নেই নাঙ্গা এবং রাজনৈতিক কারণে দেশের বাইরে থাকা অন্যান্য কঙ্গোলিজ নেতাদেরও যুক্ত করতে হবে।

কঙ্গো সরকার অবশ্য জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপে M23-এর অংশগ্রহণের দাবিতে সম্মতি দেয়নি। একই সময়ে সংঘাত বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সেসাঙ্গার দাবি, সরকার কিংবা AFC-M23—কোনো পক্ষই সামরিকভাবে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের অবস্থানে নেই। তাই সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে কঙ্গোতে সংবিধান সংশোধন, শিসেকেদির সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলের সংঘাত—এই তিনটি ইস্যু দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিরোধীরা এখন সংবিধানের বর্তমান মেয়াদসীমা বহাল রাখার পাশাপাশি একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।

About Desk 1

Check Also

কঙ্গোতে সরকারবিরোধী জোট গড়লেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, এম২৩-সহ একাধিক গোষ্ঠীকে নিয়ে

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জোসেফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *