ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সংকট বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠা এই দাবানলে ইতিমধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গিরোন্দ অঞ্চল। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকার আয়তন প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণ। তবে রাতভর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল এবং নতুন করে কাউকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবুও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে পর্যটকদের ভিড় শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু দাবানলের ঝুঁকি বিবেচনায় গিরোন্দ অঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য পরিচালিত ছুটির ক্যাম্প এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আয়োজন করা অবকাশ কেন্দ্রগুলো আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী স্পেনেও দাবানলের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় তা এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। এছাড়া ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলেও নতুন করে দাবানলের কারণে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ধোঁয়া ও আগুনের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন।
দাবানলের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি শুধু মানুষের জীবনই নয়, ইউরোপের পর্যটন, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
Geopulse TV
