সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান, পরদিনই বরখাস্ত! পেন্টাগনে হেগসেথকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ সিদ্ধান্ত নেন যে এবার তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার সময় এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় হেগসেথ সরাসরি সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এর মধ্যে চারজন কর্নেলকে এক-তারকা জেনারেল পদে উন্নীত হওয়ার পথ আটকে দেওয়ার ঘটনাও ছিল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরেই হেগসেথ সেনাবাহিনী ও এর নেতৃত্ব, বিশেষ করে জর্জের প্রতি ক্রমশ অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছিলেন। বিষয়টি সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠদের কাছেও রহস্যজনক মনে হয়েছিল, কারণ হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর জর্জের সঙ্গে তাঁর খুব সীমিত যোগাযোগ হয়েছিল। পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের আগেও তাঁদের মধ্যে প্রায় কোনো যোগাযোগ ছিল না।

সূত্রগুলোর মতে, হেগসেথের দপ্তরে তথ্য অত্যন্ত সীমিত পরিসরে রাখা হতো। পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরের খুব কম মানুষই জানতেন। হেগসেথ অনেক কর্মকর্তা ও কর্মীর প্রতি গভীর অবিশ্বাস পোষণ করতেন। কিছু সেনাসদস্যকে বিশেষ অভিযানের তথ্য জানার আগে গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করতে হতো, এমনকি পলিগ্রাফ পরীক্ষাও নিয়মিত হয়ে উঠেছিল।

১ এপ্রিল জর্জ হেগসেথের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানান। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন অগ্রাধিকার—প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকীকরণ—নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন এবং সেনাবাহিনী কীভাবে সেসব লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে তা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি। পরদিনই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

সিএনএন ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জানিয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই হেগসেথ বেসামরিক ও সামরিক উভয় কর্মকর্তার প্রতি সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং তাঁদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন।

তাঁর মেয়াদকালে দুই ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নৌবাহিনীর এক সচিবকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক শাখার পদোন্নতি প্রক্রিয়াতেও তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।

জর্জকে অপসারণের সময়টি আকস্মিক হলেও ঘটনাটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে হেগসেথ ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলের একটি অংশ শুরু থেকেই জর্জের প্রতি সন্দিহান ছিল, কারণ তিনি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন।

এক পেন্টাগন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, “প্রতিদিনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাদের ভাবতে হতো—এতে কি বসের চাকরি থাকবে, নাকি তিনি বরখাস্ত হবেন? এমন পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাভাবিক।”

তবে সিএনএনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল। তিনি বলেন, “সিএনএনের উদ্ধৃত বেনামি সূত্রগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিরক্ষা বিভাগ ও হেগসেথের নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।”

বরখাস্তের দিন জর্জ তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয় যে হেগসেথ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। ফোনে সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁকে বরখাস্তের খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বৈঠকে ফিরে এসে শান্ত ও নিরাবেগ ভঙ্গিতে সহকর্মীদের বিষয়টি জানান। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হলেও জর্জ বিষয়টিকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

About Desk 1

Check Also

H-1B ভিসায় বড় ধাক্কা! অতিরিক্ত ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জনপ্রিয় H-1B ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *