পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) চলমান তীব্র গণ-অসন্তোষ এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বর ক্র্যাকডাউন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য। বর্তমানে ওই অঞ্চলে কঠোর লকডাউন, কার্ফিউ এবং সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা (ব্ল্যাকআউট) বজায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল দল (কনজারভেটিভ পার্টি) নেতা ও এমপি বব ব্ল্যাকম্যান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। এর ফলে ব্রিটিশ নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করেছে কি না এবং সেখানে নিরীহ মানুষদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।
সংসদীয় বিতর্কে অংশ নিয়ে আরেক ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ইমরান হুসেইন সেখানে চলমান রক্তপাত, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ওই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের যেসব খবর আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যেকোনো আলোচনার কেন্দ্রে কাশ্মীরি জনগণের মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC) তাদের দাবি পূরণ না হলে চূড়ান্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং বিশ্ববাসীকে সেখানকার পরিস্থিতি দেখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—অর্থনৈতিক সংস্কার, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি হ্রাস এবং আইনি আসনের পুনর্বিন্যাস।
জেএএসি (JAAC) নেতা সর্দার আমান খান সামরিক ক্র্যাকডাউন ও অবরোধের কারণে সৃষ্ট তীব্র সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি সাধারণ আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় ইসলামাবাদের তীব্র সমালোচনা ও ভণ্ডামির অভিযোগ তোলেন।
Geopulse TV
