লেবাননে ফের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ, ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ফের তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় তারা হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ওই এলাকায় ব্যাপক লড়াই চলছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (NNA) তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযান এখনও চলছে।

এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রয়েছেন। বাকি তিন সেনার পরিচয় পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে চলমান এই সংঘর্ষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া নতুন শান্তি চুক্তিকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ “সব ফ্রন্টে” সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চলা নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে থাকবে।

এই হামলার সময়ই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন। হোয়াইট হাউস এর জন্য কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে। তবে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ প্যান-আরব সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন জানিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে ইরান তাদের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর জে ডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল, তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

About Desk 1

Check Also

এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি জঙ্গি নিহত, দাবি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট টিনুবুর

জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলো টিনুবু দাবি করেছেন, গত এক বছরে দেশটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *