চীনে নির্মিত প্রথম হাঙর-শ্রেণির সাবমেরিন পেল পাকিস্তান, নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নির্মিত পাকিস্তানের প্রথম হাঙর-শ্রেণির (Hangor-class) সাবমেরিন করাচি বন্দরে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাবমেরিনটি পাকিস্তান নেভি ডকইয়ার্ডে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান ফ্লিটের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল আবদুল মুনিব।
সাবমেরিনটিকে ঐতিহ্যবাহী নৌবাহিনীর সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের পাশাপাশি ক্রুদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান নেভাল অ্যাকাডেমির ক্যাডেটরা সাবমেরিন ও এর নাবিকদের আনুষ্ঠানিক সালাম জানান। এ সময় পাকিস্তান নৌবাহিনীর জেড-৯ইসি (Z9EC) হেলিকপ্টার ফ্লাই-পাস্টও অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৫ সালে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের আটটি হাঙর-শ্রেণির ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন নির্মাণের চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম চারটি সাবমেরিন চীনের চায়না শিপবিল্ডিং অ্যান্ড অফশোর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি (CSIC) নির্মাণ করছে। বাকি চারটি প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের করাচি শিপইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (KSEW)-এ নির্মাণ ও সংযোজন করা হচ্ছে।
‘হাঙর’ শব্দটি বাংলা ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘হাঙর’ বা ‘শার্ক’। ১৯৭১ সালের আগে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ থাকাকালীন সময়ের নৌবাহিনীর ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই নাম ব্যবহার করা হয়েছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রথম হাঙর ছিল ফ্রান্সে নির্মিত ড্যাফনি-শ্রেণির একটি সাবমেরিন।
বর্তমান হাঙর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, স্টেলথ সক্ষমতা-যুক্ত এবং আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা।

About Desk 1

Check Also

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩, মৃতদের মধ্যে ১১ শিশু

সীমান্তে ফের উত্তেজনা। আফগানিস্তানের তালিবান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সীমান্তসংলগ্ন আফগান ভূখণ্ডে রাতভর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *