একটি মাত্র সিটিস্ক্যান মেশিন। তাও আবার বিকল। এই ছবি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। সংকট রয়েছে এক্স–রে ও এমআরআই ফিল্মের। ভোগান্তি বাড়ছে রোগী ও তাঁর পরিজনদের।
আর্থিক সামর্থ্য নেই। ভরসা কেবল সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু সেখানেও মিলছে না সুরাহা। জাপান থেকে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে সিটি স্ক্যান মেশিনটি আনা হয়েছিল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ৭ বছরের ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হতেই বিকল হয়ে যায় মেশিনটি। বাধ্য হয়ে অনেককেই যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ।
হাসপাতালে ৪ টি এক্স-রে মেশিন রয়েছে। একটি ইতিমধ্যে খারাপ হয়ে গিয়েছে। দুটি এমআরআই মেশিনের মধ্যে একটি খারাপ। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফোকাল পার্সন ঝন্টু সরকার জানিয়েছেন, DPM পদ্ধতিতে যাতে দ্রুত সিটি স্ক্যান মেশিনটি ঠিক করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হবে সিটি স্ক্যান মেশিন সারাইয়ে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জনের সিটি স্ক্যান হোত ওই মেশিনে। চিকিৎসার কারণে একমাত্র হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলি এখন পড়েছে অথৈ চলে।
বাংলাদেশের চিকিৎসার কথা বলতেই আসে ভারতের প্রসঙ্গ বিশেষ করে কলকাতার কথা। ২০২৫ এর মার্চ মাসে বণিক বার্তা একটি প্রতিবেদন পেশ করে। ভারতে চিকিৎসা করতে যাওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যটকই বাংলাদেশের। কিন্তু কেন? ভারতের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা। চিকিৎসা ব্যয় পশ্চিমা দেশগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি হার্ট সার্জারির কথা, হার্ট সার্জারি ও ক্যানসার চিকিৎসার খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম ভারতে। ভারতের বীমা কোম্পানিগুলি বিদেশি রোগীদের জন্য স্বল্প মেয়াদের বীমার সুবিধা দিয়ে থাকে। আমেরিকায় হার্ট সার্জারির নূন্যতম খরচ বর্তমানে ৩০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৮৯৮ টাকা। ভারতে সেই খরচ দেড় লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। যদিও এই খরচ নির্ভর করে হার্ট সংক্রান্ত জটিলতার উপর। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে দেশের একশ্রেণির মানুষ প্রচার করছেন, বাংলাদেশিরা যাতে কোনওভাবে ভারতে চিকিৎসা করাতে না জান। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁরা সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাতে চাইছেন। কিন্তু বাস্তবটা অন্য। তাই ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, নাহিদ ইসলামদের কথা তারা কতটা মেনে চলবেন বা আদৌ চলতে পারবেন কিনা সেই নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়।
Geopulse TV
