ইজরায়েলের শহরে উঠবে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের মূর্তি, মহারাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা চাইল তেল আবিব

শিব রাজ্যাভিষেক দিবস উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগের ঘোষণা করেছে ইজরায়েল। দেশটির এক বৃহৎ শহরে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের একটি ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুম্বইয়ে নিযুক্ত ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ।

১৬৭৪ সালের ৬ জুন শিবাজি মহারাজের রাজ্যাভিষেকের বার্ষিকী উপলক্ষে গত সপ্তাহে এই ঘোষণা করেন রেভাচ। তিনি জানান, স্মৃতিস্তম্ভটি যাতে শিবাজির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারে, সেজন্য ইজরায়েল সরকার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের কাছে ঐতিহাসিক তথ্য, শিল্পকলা বিষয়ক পরামর্শ এবং নকশা সংক্রান্ত সহযোগিতা চেয়েছে। রেভাচের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেভাচ বলেন, “এটি কেবল একটি সাধারণ প্রকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় ও ইজরায়েলি জনগণের মধ্যে আরও গভীর সংযোগ তৈরি হবে। আমরা ইজরায়েলের একটি বড় শহরে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছি।”

এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান দেবেন্দ্র ফড়নবীস। তিনি লেখেন, “এটি অত্যন্ত বড় খবর। শিব রাজ্যাভিষেক দিবসের পবিত্র উপলক্ষে ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচকে এই ঐতিহাসিক ঘোষণার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ইজরায়েলে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপনের এই উদ্যোগে মহারাষ্ট্র সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

ইহুদি ও মারাঠাদের সম্পর্কের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। বহু শতাব্দী ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইহুদিরা নির্যাতনের শিকার হলেও ভারতের মাটিতে তারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিল। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কোকণ উপকূলে বসবাসকারী মারাঠিভাষী ‘বেনে ইজরায়েল’ সম্প্রদায় ভারতীয় ইহুদিদের অন্যতম প্রাচীন গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহাসিক বিশ্বাস অনুযায়ী, সেলিউসিড শাসক অ্যান্টিওকাস এপিফেনেসের আমলে গ্যালিলি অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা একদল ইহুদি জাহাজডুবির পর মহারাষ্ট্র উপকূলে এসে পৌঁছান। ১৪ জন নারী-পুরুষের সেই দল কোকণ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। তারা তেল নিষ্কাশন, মুদি ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হলেও ইহুদি ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলতেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৭শ শতকে বেনে ইজরায়েল সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য শিবাজি মহারাজের সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২২ সালের ১ অক্টোবর প্রকাশিত *টাইমস অব ইজরায়েল*-এর একটি ব্লগে উল্লেখ করা হয়, শিবাজি বেনে ইজরায়েলদের সামরিক দক্ষতা উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাদের অনেককে নিজের বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে মারাঠাদের স্বাধীনতা অর্জনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সেই মারাঠা রাজ্যই পরে আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়।

About Desk 1

Check Also

চীনে নির্মিত প্রথম হাঙর-শ্রেণির সাবমেরিন পেল পাকিস্তান, নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নির্মিত পাকিস্তানের প্রথম হাঙর-শ্রেণির (Hangor-class) সাবমেরিন করাচি বন্দরে পৌঁছেছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *