ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান AMCA (Advanced Medium Combat Aircraft) প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA)। প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর বাইরে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে যুদ্ধবিমান তৈরির দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ADA ইতোমধ্যে তিনটি শর্টলিস্টেড বেসরকারি গোষ্ঠীর কাছে Request for Proposal (RFP) পাঠিয়েছে। এগুলো হলো লারসেন অ্যান্ড টুবরো-ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড জোট, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং ভারত ফোর্জ-বিইএমএল গোষ্ঠী।
প্রায় ১৫ হাজার কোটি রুপির (১.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এই প্রকল্পকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম উচ্চাভিলাষী সামরিক বিমান কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচিত সংস্থাকে পাঁচটি প্রোটোটাইপ এবং একটি Structural Test Specimen (STS) তৈরি করতে হবে।
তবে প্রকল্পটির সময়সীমা ও বাজেট নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। RFP অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি করতে হবে এবং ৩০ মাসের মধ্যে তার প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করতে হবে। ২০২৯ সালের মধ্যেই প্রথম AMCA প্রোটোটাইপ উন্মোচনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যা শুরুতে GE F414 ইঞ্জিন ব্যবহার করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ৮০০টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সাত বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরপরই সিরিয়াল উৎপাদন শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে AMCA যুদ্ধবিমান উৎপাদন শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়সীমা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। কারণ শর্টলিস্টেড সংস্থাগুলোর মধ্যে টাটা ছাড়া অন্য কারও যুদ্ধবিমানের অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের অভিজ্ঞতা নেই। টাটা অবশ্য এয়ারবাসের সঙ্গে যৌথভাবে C-295 পরিবহন বিমান তৈরির অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপন করেছে। তবে সেটি যুদ্ধবিমান নয়।
RFP অনুযায়ী নির্বাচিত সংস্থাকে বিদেশি অংশীদারিত্ব ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন একটি ভারতীয় কোম্পানি গঠন করতে হবে। সেই সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO), প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (COO)—সব পদেই ভারতীয় নাগরিক থাকতে হবে।
একই সঙ্গে স্টেলথ প্রযুক্তি, সেন্সর ফিউশন, উন্নত কম্পোজিট উপাদান, গ্রাউন্ড টেস্টিং এবং বিদেশি ইঞ্জিন সংযোজনের মতো জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও সামলাতে হবে নির্বাচিত সংস্থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের F-22 Raptor এবং F-35 যুদ্ধবিমানের প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি ও উড্ডয়নে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লেগেছিল। সেখানে ভারতের নতুন সংস্থাগুলোর মাত্র ৩০ মাসে একই ধরনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করানো অত্যন্ত কঠিন লক্ষ্য।
তবুও এই প্রকল্পকে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি সফল হলে দেশটির বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে।
Geopulse TV
