গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা নিয়ে দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মাহফুজ আলম। তার দাবি, আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় দেখা না গেলেও বাস্তবে দলটি “ফিরে এসেছে” দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায়। আর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে দায়ী অভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা রাজনৈতিক ভুল, উগ্রবাদ, মব সংস্কৃতি এবং অন্তর্বর্তী শাসনের ব্যর্থতা।
ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ‘২৪ কে ‘৭১ এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি।” তার মতে, অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী রাজনীতির বদলে উগ্র ডানপন্থী শক্তির উত্থানকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইনের শাসনের বদলে “মবের শাসন” প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করে এবং সেটিকে অনেকেই উদযাপন করেছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, উগ্রবাদীদের মাজারে হামলা, ভিন্নমতাবলম্বীদের হেনস্তা, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সমাজের একটি অংশ নীরব থেকেছে। মাহফুজের ভাষায়, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে ‘মজলুমগণ’ চুপ ছিল।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আওয়ামী লীগের জন্য সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে।
মাহফুজ আলম অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনাও করেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বদলে “আমলাতান্ত্রিক কিচেন ক্যাবিনেট” সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই কাঠামোর ভেতরে বিএনপি, জামায়াত ও “লীগের ছুপা দালালরা” প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলন বিপ্লবী সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ না নিয়ে “লুম্পেন ক্লাব ও মব সংস্কৃতিতে” পরিণত হয়েছে।
পোস্টের শেষদিকে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “মূল কথাই বলা হয়নি। লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।” এই মন্তব্যকে অনেকে আত্মসমালোচনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলেও ব্যাখ্যা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ মাহফুজ আলমের বক্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠোর বিশ্লেষণ বলছেন, আবার সমালোচকদের মতে এটি একপাক্ষিক ও আবেগপ্রসূত রাজনৈতিক অবস্থান।
তাঁর এই আত্মবিশ্লেষণ কোন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে? ডিপস্টেট তাঁকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে?
Geopulse TV
