বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ আরও উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৬-তে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পাঁচটি মৃত্যুকে সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৯৩ জন শিশুর মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে হয়েছে। এছাড়া আরও ৫৭৩ শিশু হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, একই ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে আরও ১৩৯ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে দেশে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হামের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩।
গত মার্চে সংক্রমণ তীব্র হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৮৯ হাজার ৯০৪টি সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে এই পরিসংখ্যান যোগ করলে দেশে হাম ও হাম-সদৃশ রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দশকে এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় হাম প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সংক্রমণ ও মৃত্যুর বড় অংশই শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের মধ্যে টিকার আওতা কমে যাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। এর সুযোগ নিয়েই হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিত হয়নি, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাম নিয়ন্ত্রণে দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে নির্ধারিত বয়সের শিশুদের অবশ্যই হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার এবং টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Geopulse TV
