পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক প্রশাসন সম্প্রতি যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামে একটি প্রভাবশালী নাগরিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। গত সপ্তাহে প্রশাসন জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সংগঠনটিকে বেআইনি ঘোষণা করে।
রবিবার রাওয়ালাকোট শহরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে বিপুল সংখ্যক জেএএসি সমর্থক জড়ো হন।
রাওয়ালাকোটের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জেএএসি কর্মীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রল বোমা এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এ সময় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং জেএএসি সমর্থকরা সরকারি এই বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।
সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে জেএএসি ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির একদিন আগে। সংগঠনটি ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। এছাড়া সংগঠনটি পূর্ববর্তী সহিংসতা, ইন্টারনেট বন্ধ, সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদের কথিত শোষণ এবং রাজনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল।
জেএএসি সদস্যরা তাদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করাকে নিপীড়নের শামিল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, তারা বৈধ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটির কিছু বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছিল।
এদিকে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে কমিশনটি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেসামরিক নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার নিন্দা জানায়।
এইচআরসিপি বলেছে, সংলাপ প্রয়োজন হলেও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করে তা অর্থবহ হতে পারে না। তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা, অভিযোগগুলির স্বচ্ছ সমাধান এবং পরিস্থিতি আরও জটিল না করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মূল্যায়নে দ্রুত একটি তথ্য-অনুসন্ধানী দল পাঠানোর ঘোষণাও করেছে কমিশন।
Geopulse TV
