সীমান্ত ইস্যুতে দায় এড়াচ্ছে বাংলাদেশ? ‘পুশ ইন’ নিয়ে বিএসএফকে নিশানা ঢাকার

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যু নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিএসএফ শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়েছে এবং এর ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

তবে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রশ্ন উঠছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত দায় এড়িয়ে বাংলাদেশ সরকার কি পুরো বিষয়টির দায় বিএসএফের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে?

ভারতীয় নিরাপত্তা মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, নাগরিক পরিচয় যাচাই এবং প্রত্যাবাসন একটি দীর্ঘদিনের জটিল বিষয়। কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই আন্তর্জাতিক নিয়ম। ভারতের বক্তব্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিএসএফ নির্দিষ্ট আইন ও প্রোটোকল মেনেই কাজ করে।

সাইফুল হক তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, সীমান্তের পশ্চিম অংশের বিভিন্ন এলাকায় বিএসএফ ‘পুশ ইন’ চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু মানুষকে নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে রাখা হয়েছে। খাবার, জল ও চিকিৎসার অভাবে তাঁদের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর ভারতের বাংলাদেশ-বিরোধী মনোভাব আরও বেড়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় মহলের বক্তব্য, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা এবং অবৈধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রতিটি দেশের সার্বভৌম দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকেও অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল নথি এবং নাগরিক পরিচয় সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে নাগরিক প্রত্যাবাসনের জন্য নির্দিষ্ট কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। ভারত বারবার জানিয়েছে, বৈধ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই, তবে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে নয়, বরং দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়, তথ্য যাচাই এবং নির্ধারিত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব।

বর্তমানে ‘পুশ ইন’ বিতর্ক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

About Desk 1

Check Also

সেভেন সিস্টার্স’ বিচ্ছিন্নের কথা বলা নেতাদের এবার পঞ্চগড় নিয়ে চিন্তা, সেনানিবাসের দাবি সারজিসের

একসময় ‘চিকেনস নেক’ করিডর বিচ্ছিন্ন করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে (সেভেন সিস্টার্স) আলাদা করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *