ঐতিহাসিক মোড়! আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি, হরমুজ প্রণালী খুলছে, থামছে যুদ্ধ

ট্রাম্পের দাবি, ‘স্থায়ীভাবে টোল ফ্রি’ হবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ; পারমাণবিক ইস্যুতে ৬০ দিনের আলোচনার পথ খুলল

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর অবশেষে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। দুই পক্ষই সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে, অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৌশলগত Strait of Hormuz পুনরায় খুলে দেওয়া। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই জলপথে জাহাজ চলাচল “স্থায়ীভাবে টোল ফ্রি” করার ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহণ হয়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি ইজরায়েলকেও একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছে। যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu আলোচনার বিরোধিতা করেছিলেন বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সমঝোতা শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আমেরিকা আবার অভিযান শুরু করতে পারে, অথবা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে নতুন ভূমিকা নিতে পারে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি হয়েছে। সেই খসড়ায় ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আলোচনার সময় ইরানের আটকে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের বিষয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে।

চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সংসদের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf এবং বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi অংশ নেবেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান এখনও আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

About Desk 1

Check Also

ইরানে হামলা স্থগিতের দাবি ট্রাম্পের, তবে চুক্তির খসড়া এখনো অনুমোদন দেয়নি তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *