গোপন খেলা’র ফাঁদে জঙ্গলে ফেলে উধাও বাবা-মা, পর্তুগালের কুখ্যাত কারাগারে ফরাসি নারী

পর্তুগালের নির্জন জঙ্গলে দুই শিশুকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক ফরাসি নারী ও তার সঙ্গী। ঘটনাটি ইউরোপজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। অভিযুক্ত নারী Marine Rousseau-কে ইতোমধ্যে লিসবনের কুখ্যাত নারী কারাগার ‘টায়ার্স প্রিজন’-এ পাঠানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য মেট্রো*-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী মেরিন রুশো এবং তার সঙ্গী ৫৫ বছর বয়সী Marc Ballabriga-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পাঁচ বছরের বার্থেলেমি ও তিন বছরের জাকারিকে পর্তুগালের আলকাসের দো সাল এলাকার জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, দম্পতি শিশুদের চোখ বেঁধে একটি “খেলা”-র কথা বলে। তারা জানায়, মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি খেলনা খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে পুঁতে রাখা ছিল একটি ছুরি। পাঁচ বছরের বার্থেলেমি মাটি খুঁড়ে ছুরিটি বের করার পর চোখের বাঁধন খুলে দেখে, বাবা-মা কেউই সেখানে নেই।

আতঙ্কিত দুই শিশুর কাছে তখন ছিল কেবল কিছু পোশাক, দুই বোতল পানি, কিছু বিস্কুট, একটি নাশপাতি ও একটি কমলা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় এক দম্পতি—ইউজেনিয়া ও আর্তুর কুইন্টাস—গ্রামীণ সড়কে দুই শিশুকে ঘুরে বেড়াতে দেখে উদ্ধার করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুরা ভয়ে চিৎকার করছিল এবং মারাত্মক আতঙ্কে ছিল।

অভিযুক্ত মেরিন রুশো পেশায় একজন সেক্সোলজিস্ট। বর্তমানে তাকে লিসবনের টায়ার্স প্রিজনে একাকী কক্ষে রাখা হয়েছে এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও নেই। প্রায় ৪৫০ বন্দির এই কারাগারটি খুনি ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধীদের জন্য পরিচিত। সেখানে গর্ভবতী বন্দিদের জন্য নার্সারি, স্কুল ও কারুশিল্পের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অন্যদিকে মার্ক বালাব্রিগাকে পাঠানো হয়েছে সেটুবাল কারাগারে। তিনি সাবেক ফরাসি পুলিশ কর্মকর্তা এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুজনকেই “পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগজুড়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ফাতিমার কাছে একটি ক্যাফে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে চিকিৎসা পরীক্ষার পর দুই শিশুকে নিরাপদে পালক পরিবারের কাছে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনাটির পেছনে আরও ভয়ংকর কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

About Desk 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *