ইউক্রেনের রাজধানী Kyiv-এ মঙ্গলবার ভোররাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বহু আবাসিক এলাকা। গত তিন সপ্তাহে রাজধানীতে এটি ছিল তৃতীয় বৃহৎ হামলা। হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা Olha Mudra বলেন, সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।
ধুলোয় ঢাকা চুল আর কালো ধোঁয়ার দাগে ভরা মুখ নিয়ে ছয় বছর বয়সী মেয়ে নাতালিয়াকে পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, “চারদিকে শুধু ধোঁয়া ছিল, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। কী ঘটছে আমরা বুঝতেই পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল কোনো প্রলয় নেমে এসেছে।”
হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সেবা কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং পুড়ে যাওয়া গাড়ির মধ্যে উদ্ধারকাজ চালান। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দাবি করে যে তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। তবে বাস্তবে বেসামরিক মানুষও এই সংঘাতের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছেন।
সর্বশেষ রুশ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন ছিলেন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর Dnipro-এর বাসিন্দা। সেখানে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে স্বজনরা হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যখন উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ বের করছিলেন। উপস্থিত এক ব্যক্তি শোক সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কিয়েভে ওলহা মুদ্রার বাসভবনটি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলি করে নামানো কোনো বস্তুর ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের পর চারদিকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না, তাই ফোনে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলাম। চারদিকে অন্ধকার ছিল, মানুষ টর্চলাইট ব্যবহার করছিল। আমরা কোথায় আছি সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।”
হামলার সময় হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কিয়েভ মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে যান। অনেকে প্ল্যাটফর্মে গদি বিছিয়ে বা অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করে রাত কাটান। ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী Anna Krzhypenska বলেন, “মানসিক ও শারীরিকভাবে এটি খুবই কঠিন। সকালে শান্তিতে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কফি খাওয়ার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু তার বদলে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে হয়।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে যুদ্ধ চলছে। কয়েক লাখ সেনা ও হাজারো বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারির অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। একই সঙ্গে দুই পক্ষের বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা আরও কঠোর হয়ে ওঠায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
Geopulse TV
