দ্রুত বর্ধনশীল ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ বা পূর্বাভাস বাজারে অবৈধ লেনদেন ও কারসাজি রুখতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার হাউজ এগ্রিকালচার কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মার্কিন কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন (CFTC)-এর চেয়ারম্যান মাইকেল সেলিগ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই বাজারে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসা করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘আইনের সর্বোচ্চ শক্তি’ প্রয়োগ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক নিযুক্ত এই শীর্ষ নিয়ন্ত্রক জানান, তার সংস্থা বর্তমানে এ ধরণের কয়েকশ সম্ভাব্য ঘটনা তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, প্রেডিকশন মার্কেট এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে মানুষ খেলাধুলা, নির্বাচন, বিনোদন, আবহাওয়া এমনকি যুদ্ধের ফলাফলের ওপর বাজি ধরতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এর স্বচ্ছতা নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের মধ্যেই উদ্বেগ বেড়েছে।
সেলিগ বলেন, “আমি তাদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই যারা আমাদের বাজারে জালিয়াতি বা তথ্য কারসাজির সঙ্গে যুক্ত: আমরা আপনাদের খুঁজে বের করবই।” তিনি জানান, বর্তমানে সিএফটিসি-র হাতে শত শত খোলা তদন্ত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তারা প্রতি বছর হাজার হাজার অভিযোগ বা টিপস পাচ্ছেন।
গত ডিসেম্বরে সিএফটিসি-র দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেসে এটিই ছিল সেলিগের প্রথম সাক্ষ্য।
যদিও তিনি এই শিল্পের একজন সমর্থক হিসেবে পরিচিত, তবুও পলিমার্কেট (Polymarket) এবং কালশি (Kalshi)-র মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে হওয়া কিছু সন্দেহজনক লেনদেন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান বা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার আগে কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং লাভজনক বাজি ধরা হয়েছিল, যা ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’-এর জোরালো সন্দেহ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার আগে বা ভেনেজুয়েলার নেতার আটক হওয়ার মতো ঘটনার আগে পলিমার্কেটে অবিশ্বাস্যভাবে সঠিক কিছু ট্রেড দেখা গেছে। অন্যদিকে, কালশি যুদ্ধের ওপর বাজি ধরার অনুমতি না দিলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মেয়াদ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত বাজারের ক্ষতিপূরণ গ্রাহকদের ফেরত দিয়েছে।
প্রেডিকশন মার্কেটের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—গোপন তথ্য ব্যবহার করে এই বাজারে ফায়দা লোটা কি আইনত দণ্ডনীয়? সেলিগের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএফটিসি এখন এই বাজারকে শেয়ার বাজারের মতোই কড়া নজরদারিতে রাখতে বদ্ধপরিকর। জালিয়াতি ও কারসাজি মুক্ত একটি সুস্থ বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
Geopulse TV
