এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। একই সময়ে সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলা দুই দেশের মধ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরান নিশ্চিত করেছে যে তারা ইসরায়েলের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তেহরান এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন নাসর’ (Operation Nasr) , যার অর্থ ‘বিজয়’।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইসরায়েল এর আগে ইরানের তিনটি অঞ্চলে একাধিক রাডার স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করে ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নেভাতিম (Nevatim) এবং তেল নফ (Tel Nof) বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, “সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের সাহসী যোদ্ধারা ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করেছে। এই অভিযানে নেভাতিম ও তেল নফ কৌশলগত বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”
এই সামরিক অভিযানের সূচনা এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থান এবং ইসরায়েল ও লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রোববার তেহরান আগেই পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছিল। সেই সতর্কবার্তার একদিন পরই ‘অপারেশন নাসর’-এর মাধ্যমে ইরান সরাসরি পাল্টা আঘাত হানল।
Geopulse TV
