খনি খনন কি ইবোলার বিস্তারে ভূমিকা রাখছে? কঙ্গো ঘিরে নতুন উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের

মধ্য আফ্রিকায় ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনি খনন কার্যক্রমের বিস্তার এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। *দ্য গার্ডিয়ান*-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গো অববাহিকায় স্বর্ণ ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলন বাড়ার ফলে মানুষ এবং ভাইরাস বহনকারী বন্যপ্রাণীর মধ্যে যোগাযোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা ভাইরাস স্বাভাবিকভাবে কিছু বন্যপ্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান থাকে। বিশেষ করে বাদুড়কে এই ভাইরাসের অন্যতম সম্ভাব্য বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু স্বর্ণ, কোবাল্ট ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজের সন্ধানে খনি শ্রমিকরা যখন দুর্গম বনাঞ্চলের গভীরে প্রবেশ করেন, তখন বনভূমি ধ্বংস হয় এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল মানুষের খুব কাছাকাছি চলে আসে।

মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানিয়েছে, ইবোলা সাধারণত খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায় না। তবে আফ্রিকায় আক্রান্ত প্রাণী শিকার, জবাই এবং তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের কর্মকর্তা ড. টলবার্ট গিউলেহ নিয়েন্সওয়া বলেন, “যখন মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়, তখন এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ‘ওয়ান হেলথ’ বা সমন্বিত স্বাস্থ্য পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এখনও বাদুড়ের সংস্পর্শে আসি, শিকারিরা এখনও বানর শিকার করে এবং আমরা পরিবেশের খুব কাছাকাছি বসবাস করি।”

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেইনফরেস্টের আবাসস্থল **গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)**। একই সঙ্গে দেশটি স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এবং আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন খনিজের বড় সরবরাহকারী। প্রযুক্তিপণ্য ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খনি কার্যক্রমও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনি এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী শ্রমিকের সমাগম হয়। তারা সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পান না। ফলে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় একাধিকবার এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন সংরক্ষণ, খনি অঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করাই ভবিষ্যতে এমন প্রাদুর্ভাব রোধের প্রধান উপায়।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গত মে মাসে বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, সংক্রমণ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে শুরুতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটিকে ইবোলার ভিন্ন একটি ধরন হিসেবে পরীক্ষা করছিলেন।

আফ্রিকা সিডিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

About Desk 1

Check Also

সারা রাত গুলির শব্দে কাঁপল মোগাদিশু, রাজনৈতিক সংঘর্ষে নতুন সংকটে সোমালিয়া

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে বুধবার রাতভর ভারী গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *