গিনিয়ায় জঙ্গলে চোখ বাঁধা ৬ জনের দেহ উদ্ধার, গণকবরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ফ্রান্সের

গিনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফোরেকারিয়া প্রদেশে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাল ফ্রান্স। দেশটির সামরিক শাসনের মধ্যে একসঙ্গে ছয় জনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গিনিয়ার বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে প্যারিস।

সোমবার জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া একদল যুবক ওই দেহগুলি দেখতে পান। উদ্ধার হওয়া ছয় জনই পুরুষ। তাঁদের হাত বাঁধা এবং চোখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারি কৌঁসুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

গিনিয়ার বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে। তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ ও যথাযথ ভাবে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা।

‘টার্ন দ্য পেজ-গিনি’ নামে একটি নাগরিক আন্দোলনের দাবি, দেহগুলি একটি প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এই পরিস্থিতি থেকেই গুরুতর প্রশ্ন উঠছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির আরও অভিযোগ, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সামরিক কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা দখলের পর থেকে সাধারণ নাগরিক এবং সরকারি কর্মীদের বেআইনি ভাবে হত্যা করার একাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গণকবরের সঙ্গে ওই অভিযোগগুলির সরাসরি যোগসূত্র এখনও প্রমাণিত হয়নি।

গত বছরও একই অঞ্চলে আরও একটি গণকবরের সন্ধান মিলেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ঘটনায় মৃতদের পরিচয় কিংবা তাঁদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

গিনিয়ায় সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত কয়েক বছরে একাধিক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ বা স্থগিত করা হয়েছে। ২০২২ সালে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পর বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি কঠোর ভাবে দমন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ছাড়াও বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের একাধিক নেতা গ্রেফতার, দণ্ডিত অথবা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে গণকবরের সন্ধান পাওয়ায় গিনিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ল।

About Desk 3

Check Also

কঙ্গোর সংবিধান সংশোধন ঠেকাতে বিরোধীদের চাপ, তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (DRC) সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *