হরমুজ প্রণালীর কাছে নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা নাজুক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মঙ্গলবার ভোরে হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সরাসরি যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও ওয়াশিংটন বলছে, এটি ছিল “প্রতিরক্ষামূলক অভিযান”। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌ-মাইন পেতে চেষ্টা করা কিছু নৌযানকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও “কয়েক দিন” সময় লাগতে পারে। যদিও এর আগে উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক কাঠামোতে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিল।
প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ৩০ দিনের জন্য একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠন করা হতে পারে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, আলোচনায় অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি। এই অর্থ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ অবস্থায় রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।
ইরানের Revolutionary Guards দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের অনুমতি নিয়ে ২৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং আরও একটি ড্রোন ও একটি যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে।
সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান থেকেই ইসলামিক রিপাবলিক সরে আসবে না। তার ভাষায়, “ঘড়ির কাঁটা আর পেছনে ফেরানো যাবে না।”
অন্যদিকে Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, লেবাননে সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করছে ইসরায়েল। সেখানে চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও Hezbollah-এর সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই তার মূল লক্ষ্য। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে প্রায় ৯০ দিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পর ইরানে ধীরে ধীরে অনলাইন সংযোগ ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে NetBlocks। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সামরিক উত্তেজনা যে কোনো সময় পুরো অঞ্চল ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Geopulse TV
