দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্পের গুণমান বজায় রাখার উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেল, সড়ক ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনার সময় বিভিন্ন পরিষেবার জন্য সমন্বিত ‘ইউটিলিটি করিডর’ তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল সেবা তীর্থে ৫৩তম প্রগতি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মোদী। বৈঠকে নয়টি রাজ্যে বাস্তবায়নাধীন ছ’টি পরিকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। রেল, সড়ক এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় পরিবহণ ও পরিকাঠামো প্রকল্প তৈরির সময় যেখানে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক ভাবে সম্ভব, সেখানে বিভিন্ন পরিষেবার জন্য একই করিডর ব্যবহারের পরিকল্পনা করা উচিত। তাঁর মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাজের মানের সঙ্গে কোনও ভাবেই আপস করা যাবে না।
প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গুণমান যাচাই এবং নজরদারি আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, পরিকাঠামো প্রকল্পকে আলাদা আলাদা অংশ বা প্যাকেজ হিসেবে না দেখে সামগ্রিক ভাবে দেখতে হবে। কোনও একটি অংশে দেরি হলে যাতে পুরো প্রকল্পের কাজ থমকে না যায়, সে জন্য শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতিগুলি চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিকাঠামো প্রকল্পে দেরি শুধু ব্যয় বাড়ায় না, এর ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির জন্য নির্ধারিত সুবিধাও পিছিয়ে যায়। তাই কেন্দ্র, রাজ্য এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে ডিজিটাল কৃষি মিশনের আওতায় অ্যাগ্রিস্ট্যাক নিয়েও পর্যালোচনা হয়। কৃষি সংক্রান্ত তথ্য থেকে আরও বেশি সুফল পেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাইবার প্রতারণা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রতারণা রুখতে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং শিক্ষার উপর ধারাবাহিক ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মোদী। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, যুবসমাজ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য নিয়মিত জনসচেতনতা প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।
Geopulse TV
