নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তা করতে ৪৭ টনের বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বন্যায় এখনও শত শত ভারতীয় নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বুধবারের আকস্মিক বন্যার ঘটনায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক এখনও নিখোঁজ অথবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অন্য দেশের নাগরিকত্বধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও প্রায় ১০০ জনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চীনের অংশে আটকে পড়া আরও ৯৬ জন ভারতীয় নিরাপদে স্থলপথে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছানো তামিলনাড়ুর ২১ জন ভারতীয় নাগরিক বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন।
চীনের অংশে থাকা ভারতীয়দের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সেখানে প্রায় ৪০০ ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে রয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসন, দলনেতা ও ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে মানবিক সহায়তা আরও জোরদার করেছে ভারত। রণধীর জয়সওয়াল জানান, নেপালের চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪৭ টনের বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, আরও একটি ত্রাণবাহী বিমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বিমানে প্রায় ১৩ টন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে বহনযোগ্য জেনারেটর, খাদ্যসামগ্রী, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওষুধ।
নিখোঁজ ভারতীয়দের বিষয়ে তথ্য ও সহায়তা দিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ২৪ ঘণ্টা চালু কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ে থাকা ভারতীয় দূতাবাসও ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে।
Geopulse TV
