দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন উদ্যোগ নিল ইরান ও ওমান। তেহরানে বৈঠকে বসে প্রণালী দিয়ে ধাপে ধাপে জাহাজ চলাচল শুরু করার একটি কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি অস্থায়ী যৌথ নৌপথ তৈরি এবং জলপথ থেকে মাইন সরানোর জন্য যৌথভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
বুধবার তেহরানে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন ওমানের বিদেশমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দুই দেশ একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরির বিষয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি, প্রণালীতে থাকা সম্ভাব্য মাইন অপসারণেও যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও সরকারি টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, অস্থায়ী একটি নৌপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমান উপসাগর থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলি সম্পূর্ণ ভাবে ইরানের জলসীমা দিয়ে চলাচল করবে। অন্য দিকে, পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজগুলিকে আংশিক ভাবে ইরানের এবং আংশিক ভাবে ওমানের জলসীমা দিয়ে যেতে হবে।
তবে এই ব্যবস্থা স্থায়ী নয়। ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ ফের আলোচনা করবে। লক্ষ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই নৌপথ তৈরি করা এবং প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছনো।
ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপক ভাবে ব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে ইরান-ওমানের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে আমেরিকার প্রচেষ্টায় ওমান বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালানো হতে পারে। ফলে নতুন এই ইরান-ওমান সমঝোতা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর বেড়েছে।
Geopulse TV
