মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর করে টানা ১২তম রাতের মতো ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সংঘাত যত গড়াচ্ছে, দুই পক্ষই সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ক্রমেই একে অপরের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করায় পুরো অঞ্চলে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের ওপর ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতেই এই ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। মূলত সংঘাতের কারণে স্থবির হয়ে পড়া বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমোজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)-র ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল স্বাভাবিক করতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমোজ প্রণালীতে কোনো জাহাজে ইরান একবারও গুলি চালালে তার জবাবে দেশটির অন্তত একটি করে বড় সেতু অথবা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি (Seyed Abbas Araghchi)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান আত্মরক্ষায় ‘চোখের বদলে চোখ’ (Eye for an Eye) নীতি গ্রহণ করবে। ইরানের কোনো অবকাঠামো বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা হলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও নির্ণায়ক জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধ্বংসী যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
Geopulse TV
