পিওজেকে-তে অচল অবস্থা: ২৩ জুলাই বড় আন্দোলনের ডাক জেএএসি-র, রাওয়ালাকোটের গুলবিদ্ধ তরুণের মৃত্যুতে ক্ষোভের আগুন

পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট ও ‘চাকা জ্যাম’ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ৩৮ দফা দাবির বাস্তবায়নে পাকিস্তান সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আগামী ২৩ জুলাই সর্বাত্মক আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য আঞ্চলিক জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় সংস্থাটি ২৩ জুলাইয়ের দিনটিকে এই আন্দোলনের জন্য “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

জেএএসি নেতারা ইসলামাবাদ ও স্থানীয় প্রশাসকদের তীব্র সমালোচনা করে তাঁদের “নিরপরাধ মানুষের হত্যাকারী” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্দোলনের অন্যতম চরম মোড় ঘটিয়ে সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে যে, রাওয়ালাকোটের বাসিন্দা জিবরান মুশতাক ফারাম তারার—যিনি পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে ইসলামাবাদে চিকিৎসাধীন ছিলেন—অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। উল্লেখ্য, অঞ্চলে সহিংসতায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর জেএএসি তাদের পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ’ আজকের দিন পর্যন্ত স্থগিত রেখেছিল, যা তাঁদের ভাষায় ছিল ইসলামাবাদকে দাবি মেনে নেওয়ার “শেষ সুযোগ”।

পিওজেকে-র এই চরম গণঅসন্তোষের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইতিমধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিটি মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। অন্যদিকে, নতুন দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পাক-অধ্যুষিত এই অঞ্চলে চলমান বিক্ষোভ পাকিস্তান সরকারের দশকের পর দশক ধরে চালানো পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমনপীড়নেরই সরাসরি বহিঃপ্রকাশ। ২৩ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

About Desk 1

Check Also

বেলুচিস্তানে গুম ও নির্বিচারে আটকের অভিযোগ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম, নির্বিচারে আটক এবং জোর করে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *