লিবিয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী, ‘অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে হবে’ দাবি জনতার

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর সদর দপ্তরের বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা অবৈধ অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেন, তাদের লিবিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা “লিবিয়া লিবীয়দের জন্য”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে তারা রাজধানীতে অবস্থিত ইউএনএইচসিআরের কার্যালয় বন্ধ করারও দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাটি উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম দেশের জনসংখ্যাগত ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবাদকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে নানা বার্তা দেখা যায়। কিছু প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা বর্ণবাদ নয়” এবং “লিবিয়া বিশ্বের আবর্জনার ঝুড়ি নয়”। এসব স্লোগান ও বার্তার মাধ্যমে তারা অভিবাসন ইস্যুতে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইউরোপগামী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় বহু মানুষ দেশটিতে অবস্থান করেন বা সেখান থেকে যাত্রা শুরু করেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের এক হিসাব অনুযায়ী, লিবিয়ায় প্রায় ৯ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী বসবাস করছিলেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই সুদানের নাগরিক, যারা নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে পালিয়ে লিবিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের জবাবে লিবিয়ায় জাতিসংঘের মিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিবাসীদের লিবিয়ায় পুনর্বাসন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, “লিবিয়ায় অভিবাসীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।” পাশাপাশি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়, “লিবিয়ায় কার্যরত জাতিসংঘের কোনো সংস্থা, ইউএনএইচসিআরসহ, দেশটিতে অভিবাসীদের পুনর্বাসনের কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করে না।”

জাতিসংঘ মিশন আরও জানায়, তাদের কার্যক্রম নিয়ে দেশে ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচার এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তারা উদ্বিগ্ন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ভুল তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিবাসন ও শরণার্থী সংকটকে কেন্দ্র করে লিবিয়ায় জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে এবং দেশটিতে অভিবাসন ইস্যু কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, তা আবারও স্পষ্ট করেছে।

About Desk 1

Check Also

কঙ্গোর সংবিধান সংশোধন ঠেকাতে বিরোধীদের চাপ, তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (DRC) সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *