আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসাধারণের ব্যবহারের শৌচাগারে নিজের বন্দুক ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠল এক মার্কিন অভিবাসন দফতরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে। গত ২১ জুলাই ঘটনাটি ঘটলেও শুক্রবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিমানবন্দরের মুখপাত্র ডগ ইয়াকেল জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE-এর এক আধিকারিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে যাওয়ার পরের এলাকার একটি শৌচাগারে বন্দুকটি ফেলে যান। ওই এলাকায় যাত্রীরা বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রবেশ করেন।
এক জন বিমানসেবিকা শৌচাগারের একটি কেবিনে বন্দুকটি পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়েই বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শৌচাগারটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেন। সান ফ্রান্সিসকো পুলিশও সেখানে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ওই ICE আধিকারিক বন্দুকটি নিতে শৌচাগারে ফিরে আসেন বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ঘটনা নিয়ে ICE এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা TSA-এর তরফে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর আমেরিকা জুড়ে ICE আধিকারিকদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বেআইনি ভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও বহিষ্কার অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে ICE-এর নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মান নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আধিকারিকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর ফলে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মান কমেছে। একই সময়ে সংস্থাটিকে নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে অভিবাসন অভিযান চলাকালীন কয়েকটি প্রাণঘাতী গুলিচালনার ঘটনাতেও ICE সমালোচনার মুখে পড়েছে। ফলে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এক আধিকারিকের বন্দুক ফেলে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Geopulse TV
