মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান পাল্টা হামলা বন্ধ করে আগামীকাল কাতারের রাজধানী দোহায় পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলা বিরোধ মেটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সামরিক উত্তেজনা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে একাধিক হামলার পর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুই পক্ষই পরবর্তী সময়ে আরও বড় সংঘাতের হুঁশিয়ারি দেয়।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত উভয় পক্ষই সংঘর্ষ থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হয়েছে এবং আলোচনা চলাকালীন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
এই নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয় চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর ভিন্ন ব্যাখ্যা থেকে, বিশেষত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে মতবিরোধের কারণে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছিল।
সুইজারল্যান্ডে হওয়া আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন সেনা এবং ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন স্থাপনে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সমন্বয় করা। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি, কারণ ইরান এখনও জোর দিয়ে বলছে যে জাহাজ চলাচলের আগে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে সুইজারল্যান্ডে এই বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল এবং আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বৈঠকের স্থান দোহায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং আলোচনার মূল ফোকাস হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি।
Geopulse TV
