পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় জোরপূর্বক গুম ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় প্রদেশটিতে পরিচালিত নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম *দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট*-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নুশকি, খুজদার ও সুরাব জেলায় পৃথক অভিযানে অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নুশকির কিল্লি মেঙ্গল এলাকার মাল অঞ্চলে বড় ধরনের একটি অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সকালে প্রায় ২০টি সামরিক যানবাহন এলাকা ঘিরে ফেলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় শাহ খালিদ, মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ নিয়াজ, নূর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ আরিফ, আলাউদ্দিন এবং আবদুল বাসিতকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, ২৫ বছর বয়সী দোকানদার সাইফুর রহমানকে খুজদারের ডক্টর কলোনি এলাকা থেকে ২৫ মে ভোররাতে আটক করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) এবং মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (এমআই)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাত প্রায় ২টার দিকে তাকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবার কোনো তথ্য পায়নি।
এদিকে সুরাব জেলার হাজিকা এলাকায় ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) অভিযান চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই অভিযানে দুই কৃষক—২৩ বছর বয়সী উবাইদুল্লাহ এবং ৫৪ বছর বয়সী খুদা বখশকে আটক করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদেরও অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এখনো তারা নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়া খুজদারের মুলা অঞ্চলে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গোলাবর্ষণের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মুলা চোটটকসহ কয়েকটি এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ অবকাশযাপন ও পিকনিকের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। তবে এসব ঘটনায় হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ *দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট*-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
Geopulse TV
