হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “আরাশ-ই কামাঙ্গির” ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের কাছে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের মতে, ড্রোনটির মূল্য প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৩ কোটি ডলারের মধ্যে। যদি ইরানের দাবি সত্যি হয়, তাহলে এটিই হবে “আরাশ-ই কামাঙ্গির” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবহার। এই ব্যবস্থার নাম রাখা হয়েছে পারস্যের কিংবদন্তি চরিত্র “আরাশ দ্য আর্চার”-এর নামে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমা ও সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষার অভিযানের সময় আঞ্চলিক জলসীমার ওপর ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। তাদের বক্তব্য, “গোপন সক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা।”
তবে এখন পর্যন্ত কোনও স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্র ইরানের এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বক্তব্য সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ অতীতেও তেহরান এমন বহু সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে, যেগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দাবি পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান কম খরচে তৈরি, সহজে সরানো যায় এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এসব ব্যবস্থা বড় রাডার স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল নয়, ফলে সেগুলো শনাক্ত করাও কঠিন।
লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মার্ক হিলবর্ন আল জাজিরাকে বলেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং ইউক্রেনের মতো যুদ্ধের অর্থনীতি বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষায়, “কম খরচের সহজ প্রযুক্তিও অনেক জটিল সামরিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।”
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানের তৈরি অপেক্ষাকৃত সস্তা শাহেদ ড্রোনের কথা উল্লেখ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারে।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক কৌশলগত গোয়েন্দা সংস্থা Horizon Engage-এর নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলমেইদা মনে করেন, “আরাশ-ই কামাঙ্গির” সম্ভবত ইরানের স্বল্পপাল্লার বা ঘুরে বেড়ানো সারফেস-টু-এয়ার অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নত সংস্করণ। তিনি বলেন, “এটি প্রচলিত রাডারভিত্তিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে না। সম্ভবত এতে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল বা তাপ-অনুসরণকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, MQ-9 Reaper ড্রোন তুলনামূলক ধীরগতির হওয়ায় এগুলো এমন মোবাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
প্যারিসের Sciences Po বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি অবশ্য মনে করেন, ইরানের এখনও শক্তিশালী মধ্য ও দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। তবে তিনি বলেন, মোবাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো দ্রুত সরানো ও সহজে মোতায়েন করা যায়। তার মতে, “ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে ড্রোনটি ভূপাতিত করা তুলনামূলক সহজ ছিল, কিন্তু এটিও দেখাচ্ছে যে ইরানের এখনও কিছু কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে।”
Geopulse TV
