মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবে ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শিখা অনির্বাণ-এর অগ্নিশিখা সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে না। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, এটি আওয়ামী লীগের অপপ্রচার, শিখা অনির্বাণকে বন্ধ রাখা হয়েছে, এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ নেই।
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম নিউএজ বিডি-তে প্রকাশিত সংবাদ সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত ২ মে ২০২৬ থেকে শিখা অনির্বাণে আগুন ২৪ ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখা বন্ধ করা হয়েছে। তবে জাতীয় ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে এই শিখা যথারীতি প্রজ্বলিত করা হবে।
আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক হিসেবে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধা ও সম্মান সবসময় অটুট রয়েছে। শিখা অনির্বাণের প্রতীকী গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক মর্যাদার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সামরিক কর্মসূচি এবং স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মতো বিশেষ আয়োজনে শিখা অনির্বাণ প্রজ্বলিত করা হবে। অন্য সময়গুলোতে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিখাটি নিভিয়ে রাখা হবে। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, নিয়মিতভাবে আগুন জ্বালিয়ে না রাখার এই সিদ্ধান্ত শিখা অনির্বাণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা প্রতীকী মূল্য কোনোভাবেই কমিয়ে দেয় না। এটি শুধুমাত্র বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে নেওয়া একটি সাময়িক ব্যবস্থা।
শিখা অনির্বাণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। এটি মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ, সাহস ও জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন।
শিখা অনির্বাণ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সামরিক ও জাতীয় অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় আয়োজনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সামরিক কর্মকর্তারা এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জ্বালানি সাশ্রয়ের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার একদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে শিখা অনির্বাণের ঐতিহ্য ও মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।
শিখা অনির্বাণ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সরকার শিখা অনির্মাণ নিভিয়ে রাখা হয়েছে এটার কি কোন ডকুমেন্টের প্রমাণ আছে? যে সরকারটা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তাদের হয়ে বহু মানুষ তুরাগ নিয়ে নানা কথাবার্তা বলছে। একইভাবে এটা একটা প্রপাগান্ডা কোন একটা ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত যদি নেওয়া হয়, সেটা সরকারের দিক থেকে আসবে। যিনি এ কথাগুলো বলছেন আসলে এটা সঠিক কিনা প্রমাণের দায়িত্ব তাদের তাকে ডকুমেন্ট নিয়ে আসলে জিনিসটা প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং এই যে আমি শুনলাম জানলাম এই তথ্যগুলো আমরা মনে হয় গুরুত্ব না দেয়া উচিত।
Geopulse TV
