সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের পারস্পরিক ভারসাম্য ও শ্রদ্ধা। কিন্তু বর্তমান জাতীয় সংসদের তরুণ সদস্য ও জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সংসদীয় রীতিনীতি তোয়াক্কা না করে বিচার বিভাগ ও বেসরকারি খাতের বিরুদ্ধে অসত্য ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ সম্পর্কে অযৌক্তিক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। শুধু তাই নয়, আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি বিষয়কে নতুন করে সংসদে উত্থাপন করে তিনি বিচার বিভাগের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং আদালত অবমাননা করেছেন। ২০২৩ সালেই গুলশান থানার একটি মামলা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে অব্যাহতি পাওয়ার পরও হাসনাত আবদুল্লাহ তাকে সংসদে ‘খুনি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাঁর এই বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ ও হুমকির শামিল।
হাসনাতের এই বক্তব্য গত ২১ জুন স্পিকার প্রদত্ত রুলিং এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৭০ ধারার (১), (৬) ও (৭) উপধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বিচারাধীন বিষয়, অশালীন শব্দ এবং মানহানিকর মন্তব্য করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইতোমধ্যেই তাঁর এই আপত্তিকর বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করা হয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলে হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি গাড়ির সুব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন। তবে সংসদীয় রীতির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাঁর এই ক্রমাগত নেতিবাচক অবস্থান সংসদ সম্পর্কে মানুষের মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে। মব সংস্কৃতির ওপর ভর করে গণমাধ্যম অফিস দখল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক সৃষ্টি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। জামায়াত-এনসিপি জোটের হয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে তাঁর এই হুংকার দেশে আইনের শাসন ও নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি খাতেও তাঁর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বজায় রাখতে এই মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
Geopulse TV
